নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার ক্যারিয়ার – চাকরি এবং অন্যান্য | Network Engineer

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার

Network Engineer / নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার – একজন নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী কোন একটি প্রতিষ্ঠান বা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিকাশ এবং পরিচালনা করার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর পারফর্মেন্স নিশ্চিত করা যাতে এর ব্যবহারকারীরা সর্বাধিক সুবিধাটুকু পায়। নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৈনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেটওয়ার্ক তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন।

এই নেটওয়ার্কগুলিতে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) এবং ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)। এসকল ইঞ্জিনিয়াররা কোনও সংস্থার আইটি সাপোর্ট টিমের একজন হিসাবে বা বাহ্যিকভাবে কোন আউটসোর্স আইটি নেটওয়ার্কিং কনসালটেন্সি ফার্মেও কাজ করতে পারে।

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার-এর কাজ এবং দায়িত্ব

  • সিস্টেম কনফিগারেশন ডিজাইন, সিস্টেম ইনস্টলেশন পরিচালনা এবং সিস্টেমের স্ট্যান্ডার্ড ডকুমেন্টিং এবং প্রয়োগের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং এনভাইরনমেন্ট স্থাপন করা।
  • নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স নিশ্চিত করার জন্য এর কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ, নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধান, আপগ্রেডের সময় নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্ক অপ্টিমাইজেশনে নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্টদের সাথে সহযোগিতা করা।
  • প্রতিরক্ষামূলক পলিসি তৈরি ও প্রয়োগ করে এবং অ্যাক্সেস মনিটরিং-এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  • নিত্যনতুন ফার্মওয়্যার রিলিজের সাথে সাথে ডেটা নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট আপগ্রেড করা।
  • রাউটিং এবং স্যুইচিং ইকুইপমেন্ট, হোস্টেড আইপি ভয়েস সার্ভিস এবং ফায়ারওয়ালগুলি কনফিগার করা।
  • প্রাথমিক ইনস্টলেশন সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে ত্রুটি বের করে সমস্যার সমাধান দেয়া।
  • ডেটা সেন্টারগুলির মধ্যে আইপি অ্যাড্রেসিং এবং হোস্ট করা ডিভাইসগুলির সক্ষমতা নিরীক্ষণ করা।
  • প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টিম, থার্ড লাইন প্রকৌশলী এবং সার্ভিস ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নিয়মিত লিয়াজো রক্ষা করা। নেটওয়ার্ক সুরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেটা, সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সুরক্ষা।
  • প্রয়োজনে ত্রুটিযুক্ত নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার কম্পোনেন্ট প্রতিস্থাপন।
  • ভাইরাস প্রোটেকশন সফটওয়্যার এবং ইমেল অ্যাপ্লিকেশনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, কনফিগারেশন এবং নিরীক্ষণ করা।
  • নেটওয়ার্কিং সফটওয়্যার, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার ডিজাইন কনফিগার এবং পরীক্ষা করা।

Network Engineer / নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার

নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী কোথায় কাজ করে

  • বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট এবং ডিপার্টমেন্ট।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল।
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
  • বিমানসহ বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থা।
  • ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার সহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা।
  • বিভিন্ন টেলিকম সেন্টার, নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সফটওয়্যার কোম্পানি।

নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীর জ্ঞান ও যোগ্যতা

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে-

  • কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি কিংবা ইলেকট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিগ্রি থাকতে হবে।
  • এছাড়া কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর উপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ছাড়াও ৩ থেকে ২ বছরের কোর্সেরও সুযোগ আছে।
  • এসব কোর্স না করেও CCNA (সিসকো সার্টিফাইড নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েট) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কোর্স করেও দক্ষতা অর্জন সম্ভব।

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারদের যেসব কাজে দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয় সেগুলো হল-

  • নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এবং নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞান।
  • ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্টস, ফায়ারওয়াল, রাউটারস, সুইচস, কন্ট্রোলার সহ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ডিভাইসগুলোর ব্যবহার, পরিচালনা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
  • অ্যাপ্লিকেশন ট্রান্সপোর্ট এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামো প্রোটোকল সম্পর্কে জ্ঞান।
  • নেটওয়ার্ক যোগাযোগ সিস্টেম ডিজাইন এবং পরিকল্পনার জন্য সঠিক নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম এবং ডকুমেন্টেশন তৈরির ক্ষমতা।
  • হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নির্বাচনের জন্য বিশদ তথ্য সরবরাহ করার ক্ষমতা।
  • ডকুমেন্টেশন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্রুত নতুন বা অপরিচিত প্রযুক্তি এবং পণ্য সম্পর্কে শেখার ক্ষমতার
  • একই সাথে স্বাধীনভাবে এবং দলীয় পরিবেশে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে সক্ষম।
  • ক্লায়েন্টের ব্যবসা ও তার কি ধরনের প্রযুক্তিগত চাহিদা থাকতে পারে সে ব্যাপারে বোধগম্যতা।
  • যোগাযোগে দক্ষতা, বিশেষত টেকনিক্যালি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় এমন কর্মীদের সাথে।
  • একসাথে বিভিন্ন ধরণের কাজ করার ক্ষমতা।
  • কোন কাজে বিশদভাবে খেয়ালে দক্ষতা।
  • বিশ্লেষণাত্মক এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা।
  • নির্ভরযোগ্যতা।
  • নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ব্যপারে অভিজ্ঞতা।

কোথায় করবেন পড়াশুনা

  • প্রায় সকল সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বার সুযোগ আছে।
  • ইলেকট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যাচেলর ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ আছে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেগুলো হল- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (MIST), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)।
  • এছাড়া CCNA কোর্স করার জন্য বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও করার সুযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বুয়েট, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU) প্রভৃতি।

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার আয়

একজন নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্ট এন্ট্রি লেভেলে যে কোনো কোম্পানিতে জুনিয়র নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে যোগ দিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন হতে পারে। ২/৫ বছর অভিজ্ঞতা থাকলে দক্ষতার উপর নির্ভর করে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী হিসেবে বেতন ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বেতন হতে পারে। অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বাড়লে পরবর্তীতে তা বেড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকাও হতে পারে । এছাড়া দেশের বাইরে কাজ করলে কাজ করলে ৭-১০ লাখ টাকাও উপার্জন করা সম্ভব।

ক্যারিয়ার হিসেবে Network Engineer

বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের চাহিদা রয়েছে বিশাল। মার্কেটপ্লেসে প্রচুর নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার জব পাওয়া যায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ, প্রতিভাবান এবং সার্টিফাইড পেশাদারদের সন্ধান করে। কিন্তু সেই তুলনায় দক্ষ নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী তেমন নেই বললেই চলে। নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের বিশেষায়িত কাজের ভিন্নতার কারণে কোন প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকটি পদে তাদের দরকার পড়ে।

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজের ধরন কোম্পানির প্রয়োজনীয়তার সাথে পরিবর্তিত হয়। এই ধরনের ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের জন্য সাধারণত বিশেষ বিশেষ দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজের ভিন্নতা কারণে একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদ রেয়েছে যেমন- নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, নেটওয়ার্ক অ্যানালিস্ট, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক ম্যানেজার প্রভৃতি। যার কারণে যোগ্যতা থাকলে বর্তমান জব মার্কেটপ্লেসে সেটা দেশে হোক আর বিদেশে, কর্মসংস্থান এবং আয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

একদম শুরুতেই কেউ নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ পান না। এন্ট্রি লেভেলে একজন নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা কম্পিউটার সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করতে হয়। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়লে পরবর্তীতে জুনিয়র নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি হয়। সেক্ষেত্রে ২-৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা লাগে। এরপর যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী সিনিয়র নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্ট হবার সুযোগ থাকে।

ট্যাগসমুহ

network engineering salary, network engineer skills, network engineer responsibilities, network engineer qualifications, network engineer jobs, network engineer course, network engineer career path, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার কী, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার এর বেতন কত, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কোর্স, Ccna ক্যারিয়ার, নেটওয়ার্ক চাকরি, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ক্যারিয়ার, computer and network engineering, network engineering technology, data network engineer, certified network engineer, network software engineer, network and security engineer, network infrastructure engineer, computer network and systems engineer, network security engineer, নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী