চাকরি পেতে হলে পলিটেকনিক ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের যেভাবে তৈরি করবে

0
818
পলিটেকনিক

আমাদের দেশের অনেকেরই ধারনা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং করলেই চাকরীর অভাব হবে না। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করলেই চাকরী পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃতক্ষেত্রে সেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো।

এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা পাশ করে বের হয়েছে কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও চাকরী পাচ্ছেনা। আবার এমনও আছে যারা পাশ করে বের হওয়ার সাথে সাথে চাকরী পেয়েছে।

আসলে চাকরী পাওয়া না পাওয়া বিষয়টি সম্পূর্ণ নিজের উপর। ডিপ্লোমা চাকরী পেতে হলে নিজেকে আলাদা ভাবে তৈরি করতে হবে। অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে। নিজের ভিতরে এক্সট্রা কিছু থাকতে হবে, নিজেকে প্রমান করতে হবে আপনি সবার থেকে আলাদা।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া মানেই শুধু পাঠ্য বই পড়া নয়, সাথে ব্যবহারিক বিষয়েও ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। যারা পাঠ্যবই এবং ব্যবহারিক সমান গুরুত্ব দিয়েছে তারাই পাশ করার পরেই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারন তারা প্রথম থেকেই তাদের ক্যরিয়ার নিয়ে সচেতন  ছিলেন। এই কারনে নিজের ক্যরিয়ার সম্বন্ধে আগে সচেতন হওয়া উচিত।

একটা কোম্পানিতে ২০জন প্রার্থীর জন্য যদি চাকরির সার্কুলার দেয়, সেখানে আপনার মত আরও অনেকেই চাকরীর জন্য এপ্লাই করবে। এই চাকরীর জন্য কমপক্ষে ৫০০ টা  সিভি জমা হবে। একসাথে ৫০০জন প্রার্থীকে ডেকে ইন্টারভিউ নেওয়া তো সম্ভব হবে না, তখন কোম্পানিটি এই ৫০০ জনের মধ্যে তাদের কাছে যোগ্য হিসেবে ২০ জন প্রার্থীকে সিলেক্ট করা হবে। 

তাই আপনার সিভি এমনভাবে তৈরি করা লাগবে যাতে সেটা চাকরী-দাতার ভাল লাগে। সিভিতে অবশ্যই আপনার এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস গুলো উল্লেখ করবেন। এছাড়াও বিভিন্ন কোর্স, কন্টোলিং, বিভিন্ন ব্যবহারিক প্রোজেক্ট করেছেন সেগুলো উল্লেখ করবেন। তাহলে চাকরীদাতা আপনাকে সিলেক্ট করতে পারেন।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার চাকরী পেতে নিজেকে যেভাবে তৈরি করবেঃ

  1. আপনার রেজাল্ট ভাল হলে চাকরির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ বা ভাইবা বোর্ডে আপনাকে সবার থেকে আলাদা দৃষ্টিতে দেখা হবে। তবে শুধু ভাল রেজাল্ট হলেই চাকরি পাবেন এমন ভাবার কিছু নেই।
  2. প্রথম থেকেই ক্লাসে নিয়মিত হতে হবে। ক্লাসের হোম ওয়ার্ক, ক্লাস ওয়ার্ক রেগুলার কমপ্লিট করতে হবে। এক কথায় সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।
  3. শিক্ষকদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। কারন শিক্ষকদের হাতে প্র্যাক্টিকেল মার্ক রয়েছে। তাই স্যারদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখলে , স্যার আপনাকে বেশি স্নরন রাখবে।
  4. এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে সবাই আপনাকে চিনতে পারবে।

পড়াশুনার পাশাপাশি আর যা করবেনঃ

  1. অনেক পলিটেকনিকের অধীনে অনেক স্বল্প মেয়াদি কোর্স (৩ মাস থেকে ৬ মাস) রয়েছে , সম্ভব হলে এই কোর্স গুলো করবেন। এতে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে।
  2. ব্যবহারিক ক্লাস খুব মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। কিছু না বুঝলে শিক্ষকের সাথে কথা বলতে হবে। দরকার হলে বার বার জিজ্ঞেস করে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করলে অনেক সহায়তা হবে।
  3. সিনিয়রদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে হবে। এতে বিষয়ভিত্তিক কাজগুলো কথায় করা যাবে সেটা জানা যাবে। তারা কোথায় জব করছে বা ইন্টার্নি করেছে ইত্যাদি জানতে পারবেন।
  4. ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করবেন। ইন্টার্নশিপ থেকে খুব ভালো ভাবে শেখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা সিভিতে উল্লেখ করতে পারেন। এককথায় সময় খুব ভাল ভাবে ব্যবহার করবেন।

পরিশেষে বলা যায়, সব কিছুর আগে নিজের উপর বিশ্বাস আনতে হবে। আপনাকে ভাবতে হবে হ্যাঁ আমি পারবো। এভাবেই নিজেকে তৈরি করতে হবে। দিনশেষে অনেকেই অনেক কিছু বলবে কিন্তু সিদ্ধান্ত একান্ত আপনার। তাই সব কিছু ভালভাবে দেখে শুনে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তকে সবার আগে অগ্রাধিকার দিন। মনে রাখবেন, জীবন যেহেতু আপনার তাই এর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র আপনার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here