বেসরকারি পলিটেকনিক – এ পড়ার সুবিধা অসুবিধা

0
540
বেসরকারি পলিটেকনিক

বেসরকারি পলিটেকনিক – পলিটেকনিকে পড়তে ইচ্ছুকরা সবাই কিন্তু সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট-এ সুযোগ পায় না। রেজাল্ট, সিটের স্বল্পতা সহ বিভিন্ন কারণেই তা ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সামনে চলে আসে প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটগুলো। কিন্তু অনেকেরই মনে দ্বিধা থাকে যে হয়তো বেসরকারিতে পড়ার কারণে তার রেজাল্টের মূল্যায়ন হবে না, কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হবে। ধারনাটি আসলে ভুল। সরকারি এবং প্রাইভেট পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচি একই, এমনকি রেজাল্টের মানও একই। যার ফলে চাকরির ক্ষেত্রে কোন ধরনের বৈষম্যের ব্যাপার থাকে না। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমান মূল্যায়ন হয়ে থাকে। তবে বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু সুবিধাও।

বেসরকারি পলিটেকনিক-এ পড়ার সুবিধা

  • প্রাইভেট পলিটেকনিকে পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নিজের পছন্দের ডিপার্টমেন্টে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। সরকারি পলিটেকনিকে এই সুবিধাটি পাওয়া যায় না, সেখানে যে বিষয়ে চান্স পায় সে বিষয়টিতেই পড়তে হয়। বেসরকারিতে এই ধরনের সমস্যা নেই।
  • বেসরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষকরা তুলনামূলক বেশি আন্তরিক হয়। সরকারির তুলনায় শিক্ষার্থী কম থাকায় টিচাররা ভাল খেয়াল রাখতে পারেন। অনেক সময় শিক্ষকরা ব্যক্তিগত ভাবেও শিক্ষার্থীদের খোজ খবর নিয়ে থাকেন।
  • বেসরকারি পলিটেকনিকে থিউরি ক্লাসগুলো বেশ নিয়মিত গুরত্ব সহকারে নেয়া হয় যার কারণে দেখা যায় পরীক্ষার আগেই সিলেবাস শেষ হয়ে যায়।
  • প্রাইভেট পলিটেকনিকের অন্যতম একটি সুবিধা হল এদের ক্যাম্পাস সাধারণত রাজনীতিমুক্ত হয়। র‍্যাগিং-এর মত অপসংস্কৃতির প্রভাবও থাকেনা।

বেসরকারি পলিটেকনিক-এ পড়ার অসুবিধা

  • সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল সরকারির তুলনায় প্রাইভেট পলিটেকনিকে খরচ অনেক বেশি। সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহ বিভিন্ন অনুদান দেয়া হয় যেটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পায় না। যার ফলে বেসরকারিতে শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ বেশিই হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠান ভেদে যা হতে পারে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা বেশি।
  • বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যটাই প্রধান থাকে বলে এরা এখানকার শিক্ষকদের বেতন দেয় কম। যার কারণে ভাল অভিজ্ঞ শিক্ষকরা এসব প্রতিষ্ঠানে আসেন না। আবার কোন ভাল শিক্ষক আসলেও বেশি দিন থাকেন না। যার কারণে ঘন ঘন শিক্ষক পরিবর্তন হয়। আবার ঐ চলে যাওয়া শিক্ষকের স্থানে ভালো কোন শিক্ষকও আসেন না। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ক্ষেত্রে ভালো নির্দেশনা পায় না।
  • ল্যাব এবং ওয়ার্কশপ তৈরিতে যে পরিমানে খরচ লাগে, প্রাইভেট পলিটেকনিকগুলোর সে সামর্থ্য থাকে না বিধায় এখানে স্বল্প পরিমাণে ল্যাব থাকে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোতে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকে না।
  • অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে থিউরির শিক্ষক দিয়েই ল্যাব ও ওয়ার্কশপের ক্লাস চালানো হয়। দক্ষ ও অভিজ্ঞ ল্যাব ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দেয়া হয় না। যার কারণে শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা ভাল ভাবে পায় না।

তবে এই ধরনের অসুবিধাগুলো নিয়েও প্রাইভেট পলিটেকনিকে পড়ে ব্যাক্তিগত চেষ্টায় ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব। বাইরে বিভিন্ন কোচিং এবং কোর্স করার মাধ্যমে তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিক ক্লাসগুলোর যে ঘাটতি তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। এরপর যদি নিজে ভালো মত পড়াশুনা করা যায়, তবে বেসরকারিতে পড়েও ভালো রেজাল্ট করা যায়।

তাই বলে খোঁজ খবর না নিয়ে যে কোন একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন না যেন। আপনি এখানে লক্ষ্যাধিক টাকা খরচ করা পড়াশুনা করবেন, সুতরাং অবশ্যই খোজ নিবেন তারা কিরকম সুযোগসুবিধা আপনাকে দিচ্ছে। কারণ কোন প্রতিষ্ঠানে পরছেন – এই ব্যাপারটা কিছুটা হলেও আপনার পড়াশুনা এবং রেজাল্টে প্রভাব রাখবে।  

দেশে প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট আছে প্রায় ৪৬৭ টিরও বেশি। ২০১৯ সালের ৪র্থ সেমিস্টারের রেজাল্টের উপর করা এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১১৬ টি প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ফলাফল শূন্য, অর্থাৎ কেউ পাশ করে নি। একশর বেশি প্রতিষ্ঠানে পাশ করেছে ২/১ জন। আপনি নিশ্চয়ই টাকা খরচ করা এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইবেন না। এই কারণেই ভর্তির আগে সেই পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটটি ভালো কিনা জানাটা জরুরি। খোঁজ খবর করে কোন বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট-এর কয়েকটি ব্যাপারে জানতে পারলেই বোঝা যায় এর মান কেমন। প্রাইভেট পলিটেকনিকে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন ব্যাপারগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে এবং এ সম্পর্কে কিভাবে খোজ নেয়া যায় জানতে দেখুন এই লেখাটি-

বেসরকারি পলিটেকনিক-এ ভর্তিঃ যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন

ট্যাগসমূহ

বেসরকারি পলিটেকনিক খরচ, বেসরকারি পলিটেকনিক ভর্তি, বেসরকারি পলিটেকনিক ভর্তি ২০২১, বাংলাদেশের সেরা ১০ বেসরকারি পলিটেকনিক, বেসরকারি পলিটেকনিক – এ পড়ার সুবিধা অসুবিধা, প্রাইভেট পলিটেকনিক – এ পড়ার সুবিধা অসুবিধা