ইন্টারভিউতে ১০ ভুল: যা কোন ভাবেই করা যাবে না

ইন্টারভিউতে ভুল

ইন্টারভিউতে ভুল – একটি চাকরির ইন্টারভিউতে সুযোগ পাওয়ার জন্য অনেক সময় বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। প্রত্যাশিত এই ইন্টারভিউতে সামান্য কিছু ভুলের কারণে আপনার ইমেজ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে চাকরিটি আপনার হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। সামান্য কিন্তু সুদূরপ্রসারী এই ভুলগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এগুলোর কারণে ভালো একটি সুযোগ আপনার হাত ছাড়া হতে পারে। তাই এধরনের ইন্টারভিউতে ভুলের ব্যাপারে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

১। প্রস্তুতি ছাড়া উপস্থিত হওয়া

কোন চাকরির ইন্টারভিউ একধরনের টেস্টের মত। ইন্টারভিউতে কোন ধরনের প্রস্তুতি বা পড়াশুনা ছাড়া উপস্থিত হলে সহজেই ধরা যায়। এর ফলে নিয়োগকারীদের ধারনা তৈরি হতে পারে যে আপনি চাকরিটির ব্যাপারে অতটা আগ্রহী না বা সিরিয়াস না। এবং তারা অবশ্যই কখনো এরকম কাউকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হবে না। যে সকল ব্যাপারে প্রস্তুতি ছাড়া কখনোই ইন্টারভিউতে উপস্থিত হওয়া উচিত না।

  • প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অজ্ঞতা – কোন ইন্টারভিউতে বসার আগে আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা, ব্যবসার ধরন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আপডেট সম্পর্কে ধারনা না থাকলে নিয়োগকর্তাদের কাছে নিজেকে পদটির জন্য উপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না বা সুচিন্তিত কোন প্রশ্ন তাদের সামনে রাখা যায় না।
  • জব ডেসক্রিপশন রিভিউ না করা – আবেদনকৃত পদের বিবরণটি সম্পর্কে জানা না থাকলে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নিজেকে সেই পদের জন্য আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপন করা যায় না, প্রশ্নের জবাবও সেই ভাবে দেয়া যায়।
  • সাধারণ ইন্টারভিউ প্রশ্নগুলো সম্পর্কে প্রস্তুত না থাকা- ইন্টারভিউর কিছু কমন প্রশ্ন আছে যেগুলোর জন্য নিজেকে আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। এর ফলে সাক্ষাৎকারের সময় এই প্রতিষ্ঠানের বা আবেদনকৃত পদের প্রেক্ষিতে উত্তর দেয়া যায় সাচ্ছন্দে।

২। দেরিতে উপস্থিত হওয়া

যে কোন সাক্ষাৎ-এর ক্ষেত্রেই প্রথম ইম্প্রেশন বা অভিব্যক্তি বেশ গুরত্বপূর্ণ। যখন আপনি কোন ইন্টারভিউতে দেরি করে উপস্থিত হবেন তখন স্বাভাবিক ভাবেই জিনিসটা শুরুতেই একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিয়োগকারীদের মনে আপনার দায়িত্ববোধ এবং কাজের প্রতি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই কারণে আগে থেকেই এমনভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে হবে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন সমস্যায় পরলেও হাতে কিছু সময় থাকতেই ইন্টারভিউ ভ্যানুতে পৌঁছানো যায়। আর একান্তই যদি সময় মত পৌছনো অসম্ভব হয়ে পারে তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে ব্যাপারে অবহিত করতে হবে।

ইন্টারভিউতে ১০ ভুল

৩। ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা

ইন্টারভিউ কক্ষে প্রবেশের পূর্বে আপনার ফোনটি সাইলেন্ট করুন এবং বার বার ফোন চেক করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ আপনার নিয়োগকর্তাদের সামনে তাদের কথাবর্তার দিকে মনোযোগ দেয়া এবং তার বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেয়া ছাড়া ঐ মুহুর্তে আপনার অন্য কোন দিকে নজর দেয়া চাকরিটির ব্যাপারে আপনার যথেষ্ট পরিমাণে আগ্রহের অভাব বলে বিবেচিত হতে পারে।

৪। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলা

ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা না বলাই শ্রেয়। অনেক সময় নিজের ব্যাপারে বলতে গিয়ে বা আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়ে আমরা এমন কিছু কথা বলে ফেলি যেটা আমরা কখনোই চাইনা। এর ফলে নিজের অপেশাদারিত্ব প্রকাশ পায়। নিজের সম্পর্কে বলার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের চেয়ে বরং প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আলোচনা করুন। প্রয়োজনে বাসায় প্রাকটিস করুন।

৫। উপযুক্ত পোশাক পরিধান না করা

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং রুচিশীল ভাবে নিজেকে সাক্ষাৎকারীদের সামনে উপস্থাপন করাটা বেশ গুরত্বপূর্ণ। কারণ আপনার এই গেটআপ আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে। সব ইন্টারভিউতেই যে ফর্মাল পোশাকে যেতে হয় ব্যাপারটা তাই না। বরং প্রতিষ্ঠানটির ড্রেস কোডের ব্যাপারে খোজ নিলেই জানতে পারবেন আপনি ফর্মাল পোশাকে উপস্থিত হলে ভালো হবে না ক্যাজুয়াল-ফর্মাল।

৬। পুর্বের বা বর্তমানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা

ইন্টারভিউতে পুর্বের বা বর্তমানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলার মত ভুল কাজ করবেন না কিছুতেই। কারণ আপনি চাইবেন নিয়োগদাতারা যাতে আপনার মধ্যে শ্রেষ্টটাই খুঁজে পায়। তাদের যাতে বিশ্বাস থাকে যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন ধৈর্য্য এবং পরিপক্কতার সাথে আপনি তার সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজের সর্বোচ্চ পারফর্মেন্সটুকু তাদের দিবেন। আগের এমপ্লয়ারদের ব্যাপারে খারাপ কথা বললে বরং নিজের অপেশাদারিত্ব প্রকাশ পায়।  

৭। নেতিবাচক দেহভঙ্গি  

ইন্টারভিউ চলাকালীন আপনার চলাফেরা এবং দেহভঙ্গি হতে হবে সাবলীল এবং মার্জিত। কক্ষে প্রবেশের সময় এবং সাক্ষাৎকারের পুরো সময়েই আপনার আচরণ থাকবে বিনয়ী এবং এনার্জেটিক। আপনার কোন দেহভঙ্গি যাতে দৃষ্টিকটু না লাগে আবার যাতে মনে না হয় যে আপনার মধ্যে প্রানচাঞ্চল্যের কমতি রয়েছে।

৮। বেতন সংক্রান্ত প্রশ্ন

চাকরি প্রার্থীদের প্রথমেই বেতনের বিষয়টি নিয়ে আসা উচিত নয়, কারণ এটি তাদের এই সংক্রান্ত নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে অবস্থান দুর্বল হয়ে দাড়ায়।  তার উপর আগে ভাগেই বেতনের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলে অপর পক্ষের মনে হতে পারে, আপনি আসলে টাকাকেই এই ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন, কাজ বা দায়িত্বকে আপনি অতোটা গুরত্ব দিচ্ছেন না।

৯। প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া অথবা আমতা আমতা করা 

ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসা করা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে যথাসম্ভব গুছিয়ে স্পষ্টভাবে। কোন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া বা দায়সারা গোছের উত্তর দেয়া বা আমতা আমতা করার মত কাজগুলো পরিস্থিতিকে আপনার প্রতিকূলে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

১০। অস্বচ্ছ কিংবা অসত্য তথ্য দেয়া  

চাকরির সিভিতে কিংবা ইন্টারভিউ বোর্ডে কখনো মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেয়া উচিত না। এতে বরং সাক্ষাৎকারীর সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদি সিভিতে এমন কোন তথ্য থাকে যেটা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে তবে সে সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই ভাল। সিভিতে তথ্য যদি সত্য এবং স্বচ্ছ থাকে তবে ইন্টারভিউতে স্বাচ্ছন্দে নিজের প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলা যায়।  

ট্যাগ

ইন্টারভিউর ১০ ভুল, ইন্টারভিউতে যেসব ভুল কোনোভাবেই করবেন না, যে ১০টি কথা বলা যাবে না ইন্টারভিউতে, চাকরির ইন্টারভিউ’র আগে যা জানতে হবে, চাকরির ইন্টারভিউতে মেনে চলুন ১০টি বিষয়, interviewer mistakes to avoid, common interviewing mistakes, tips to avoid being nervous in a job interview, worst interview mistakes