পলিটেকনিক ইন্টার্নশিপ প্রক্রিয়া সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

পলিটেকনিক ইন্টার্নশিপ

ইন্টার্নশিপ পলিটেকনিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা লাভের জন্য কোন কোম্পানিতে বা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সম্মানীতে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করাই হচ্ছে ইন্টার্নশিপ।

একজন শিক্ষার্থী যখন ছাত্র অবস্থায় থাকেন তখন সে শুধু পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে ফলে কর্মজীবনের পরিবেশ সম্বন্ধে কোন ধারনা লাভ করতে পারে না। ছাত্র জীবন আর কর্ম জীবন যেমন আলাদা ঠিক তেমনি শুধুমাত্র রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে কখনো চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। একজন ফ্রেশার কখনো কর্পোরেট দুনিয়া সম্পর্কে খুব বেশি জানবে না এটাই স্বাভাবিক। ইন্টার্নশিপ এমন একটি সুযোগ যেখানে ছাত্র ছাত্রীরা হাতে কলমে শিখতে পারেন, কর্পোরেট কালচারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, অফিসে প্রতিদিন কাজের ধরন, মিটিং ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারেন। ইন্টার্নশিপ কোনো পেশা নয়, তবে তা কর্মজীবনের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করে।

ইন্টার্নির ক্ষেত্রে কিছু ধাপসমূহঃ

  • আপনি কোন বিষয়ে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে প্রথম স্টেপ। এক্ষেত্রে আপনার আগ্রহি বিষয়ে চাকরির বাজার সম্পন্ধে ধারনা রাখতে হবে।
  • ধরুন আপনি ইলেকট্রিক্যাল সাব্জেক্টে পড়াশুনা করছেন, তবে আপনার পছন্দের ফিল্ড যদি সাব-স্টেশন হয় তাহলে আপনি সাবস্টেশন সম্পর্কিত কোম্পানিতে ইন্টার্নি করার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে সাবস্টেশন বিভিন্ন কোম্পানির তালিকা করুন।
  • যেসব কোম্পানির তালিকা করেছেন সেই সব কোম্পানির মেইল তাদের ওয়েব সাইট থেকে সংগ্রহ করুন এবং ভাল একটি কাভার লেটার লিখে ও আপনার সিভি এটাস্ট করে তাদেরকে মেইল করুন।
  • এছাড়া উক্ত কোম্পানিতে সরাসরি যোগাযোগ করুন এবং সঙ্গে করে সিভি নিয়ে যাবেন। তাদেরকে খুলে বলুন যে সেখানে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ আছে কিনা এবং সুযোগ থাকলে কি কি পেপার সাবমিট করতে হবে।
  • যদি মেইলের উত্তর পজেটিভ আসে তাহলে সেই কোম্পানিতে আপনি ইন্টার্নি করার সুযোগ পেলেন কিন্তু নিচের পয়েন্টের পেপারস গুলো জমা দিতে হবে।
  • স্বাভাবিক ভাবে ইন্টার্নশিপের জন্য আপনার অনুমতি পত্র / অফার লেটার আপনার পলিটেকনিক থেকে লিখে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সাক্ষর ও সিল সংযুক্ত করে সাথে আপডেটেড সিভি কাংখিত কোম্পানিতে জবা দিবেন।
  • অনেক কোম্পানি ইন্টার্নির শুরুর পূর্বে ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে সিভিতে যেসকল স্কিল যুক্ত করেছেন তা নিয়ে স্টাডি করে যেতে পারেন। সিভিতে কখনো কনফিউজিং বিষয় যুক্ত করবেন না।

ইন্টার্নিতে যেসকল বিষয় মাথায় রাখতে হবে

  • কোম্পানিতে অবশ্যই ফরমাল ড্রেসে (অফিস টি-শার্ট / শার্ট / ফুলহাতা শার্ট , গেভাডিন প্যান্ট, শু জুতা) পড়বেন। চুল ছোট রাখাই ভাল J , হাত ঘড়ি পড়তে পারেন।
  • কোম্পানিতে নির্ধারিত সময়ের আগে উপস্থিত থাকবেন। সাথে করে একটি ডাইরি এবং কিছু কলম রাখতে পারেন। আর ব্যাগ ব্যবহার করলে হাত ব্যাগ ব্যবহার করাই ভাল।
  • সবার সাথে ভাল সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করবেন এবং কাজ শেখার আগ্রহ দেখাবেন।
  • কোন কাজ দিলে সেটা সঠিক সময়ের আগে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন।
  • হাতে লকেট বা উদ্ভট টাইপের কিছু ব্যবহার করবেন না। কোন ধরনের ইনফর্মাল টাইপের শার্ট প্যান্ট পরা যাবে না।
  • প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না।
  • কারো সাথে বেশি মন খোলা না হওয়া ভাল। সবার প্রতি সম্মান দেখিয়ে কথা বলবেন।

উপরোক্ত বিষয় মেনে চলার চেষ্টা করবেন। জেনে রাখবেন, ইন্টার্নশিপের মার্ক আপনার ব্যবহার, কাজ শেখার ইচ্ছা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। এছাড়া যদি খুব ভাল করতে পারেন তবে সেখানে চাকরি করার সুযোগ ও পেয়ে যেতে পারেন।

ট্যাগসমূহঃ

ইন্টার্নি কি, পলিটেকনিক ইন্টার্নশিপ, পলিটেকনিক ইন্টার্নি, Polytechnic internship in bangladesh, polytechnic internee, diploma in engineering internship.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here