বেসরকারি পলিটেকনিক-এ ভর্তিঃ যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন

0
366
বেসরকারি পলিটেকনিক

বেসরকারি পলিটেকনিক – মাধ্যমিকের পর অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ভর্তি হওয়ার। সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে সুযোগ না পেলে অথবা অন্য কোন কারণে ভর্তি হতে না পারলে বিকল্প হিসেবে তখন অনেকেই বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বিবেচনা করেন। যেহেতু আপনার ক্যারিয়ার এই পর্যায়ের শিক্ষার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে এবং বেশ টাকা খরচ করেই আপনি প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পরবেন, তাই কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কিছু ব্যাপার বিবেচনায় রাখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

বেসরকারি পলিটেকনিক নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

শিক্ষার্থী সংখ্যা

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান কেমন তা অনেকংশেই বোঝা যায় সেই  শিক্ষার্থী সংখ্যার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান যদি ভাল হয় তবে এর সুনামের কারণে স্বভাবতই শিক্ষার্থী থাকবে অনেক। তাই কোন পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ইচ্ছা থাকলে খোজ নিন তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা কেমন, গত বছর কি পরিমাণে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

কোন কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ার সুযোগ রয়েছে

হতে পারে আপনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পরতে চান। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই খোজ নিতে হবে পছন্দের বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে এই সাবজেক্টে পড়ানো হয় কিনা। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানেই এই কোর্সটি থাকতে নাও পারে। অধিকাংশ বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানেই স্বল্প সংখ্যক কোর্স থাকে।

পর্যাপ্ত সংখ্যক ল্যাব ও ওয়ার্কশপ আছে কিনা

ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে গেলে ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এখানে যত বেশি ব্যবহারিক ক্লাস করবে তার কাজের অভিজ্ঞতা তত বৃদ্ধি পাবে। তবে এই ধরনের ল্যাব এবং ওয়ার্কশপ বেশ ব্যয়বহুল হয়, যার কারণে অধিকাংশ প্রাইভেট পলিটেকনিক গুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ল্যাব এবং ওয়ার্কশপ থাকে না। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানটিতে যথেষ্ট সংখ্যক ল্যাব এবং ওয়ার্কশপ আছে কিনা।

পর্যাপ্ত ইন্সট্রাক্টর

শুধু ল্যাব ওয়ার্কশপ থাকলেই হবে না, সেখানে শিক্ষাদানের জন্য থাকতে হবে অভিজ্ঞ ইন্সট্রাক্টর। একজন অভিজ্ঞ ইন্সট্রাক্টরের দিকনির্দেশনাতেই শিক্ষার্থীরা ল্যাব এবং ওয়ার্কশপে ব্যবহারিক জ্ঞান নিতে পারবে। একটি ভালো বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বাছাইয়ে এটিও গুরত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট।

ক্যাম্পাস পরিধি

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটি-এর ক্যাম্পাস প্রশস্ত কিনা এটিও একটি বিবেচ্য বিষয়। কারণ ক্যাম্পাস ছোট হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লাসরুম, ওয়াসরুমের ব্যবস্থা, বিভিন্ন রকম কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সুবিধা থাকার সম্ভাবনা কম।

অতীত ফলাফল

ভালো পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় অন্যতম গুরত্ব্পূর্ণ যেই বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি তা হল প্রতিষ্ঠানটির অতীত ফলাফলের রেকর্ড। পূর্বের বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি কেমন ফলাফল করেছে তা থেকে প্রতিষ্ঠানটির পারফর্মেন্স সম্পর্কে ধারনা করা যায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাশ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে অর্থাৎ কর্মরত আছে নাকি উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে নাকি বেকার এটা জানা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের সফলতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

খরচের তুলনায় সার্ভিস ভাল কিনা

স্বাভাবিক ভাবেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ অনেক গুণ বেশি। সুতরাং, কোন প্রাইভেট পলিটেকনিকে ঢোকার আগে অবশ্যই যাচাই করে নেয়া ভাল যে তাদের আপনি যে পরিমাণ টাকা দিচ্ছেন তার বিপরীতে তারা আপনাকে কি রকম পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।

বেসরকারি পলিটেকনিকের এসকল ব্যাপারে খোজ খবর যেভাবে নেয়া যায়

কোন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সম্পর্কে উপরোক্ত ব্যাপারগুলো নিয়ে কিভাবে কোথায় খোজ নিবেন এই প্রশ্ন জাগতে পারে। সব চেয়ে ভাল হয় যদি প্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে গিয়ে খোজ নেন। তাহলে ক্যাম্পাস দেখে আসা যাবে। এছাড়া ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথেও কথা বলে আসতে পারবেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা জানতে পারবেন।

আপনার কোন আত্মীয় বা পরিচিতজনের কাছ থেকেও খোজ নিতে পারেন যারা বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়াশুনা করছেন। অনেকেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন জনের লেখা বা ভিডিও-তে রিভিউ দেখে খোজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেন। এই কাজ না করে বরং নিজে খোজ নিয়ে যাচাই বাছাই করাই ভাল, কারন আপনার ভবিষৎ এই সিদ্ধান্তটির উপর অনেকটাই নির্ভর করছে।

ট্যাগ সমূহ

বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট-এ ভর্তি, বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, বেসরকারি পলিটেকনিক নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়, Diploma Engineering, পলিটেকনিক ভর্তি ২০২১, পলিটেকনিক চান্স, Polytechnic, best private Polytechnic, best besorkari polytechnic, diploma in engineering Bangladesh, sera polytechnic, sera be sorkari polytechnic, best non govt polytechnic, সেরা বেসরকারি পলিটেকনিক